বরগুনার তালতলীতে মসজিদের নামে বরাদ্দ টিউবওয়েল ব্যক্তিগত বাড়িতে স্থাপন!

নিউজ ডেস্ক

বরগুনার তালতলী উপজেলার ০৩ নং কড়ইবারিয়া ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের গেন্ডামারা গ্রামে একটি সরকারি টিউবওয়েল মসজিদের নামে বরাদ্দ এনে তা ব্যক্তিগত বাড়িতে স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালীরা এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বরাদ্দকৃত এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন, যা সরকারি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

​জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এডিপি প্রকল্পের আওতায় এলাকার জনসাধারণের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটানোর জন্য একটি টিউবওয়েল বরাদ্ধ করা হয়। প্রকল্পটি গেন্ডামারা মসজিদ-এর নামে অনুমোদন পেলেও, এটি মসজিদের কাছে স্থাপন না করে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর জামাল মুন্সি ব্যক্তিগত বসতবাড়িতে বসানো হয়েছে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই প্রভাবশালী জামাল মুন্সি মসজিদের নামে বরাদ্দ এনেছেন যাতে সহজে সরকারি সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু টিউবওয়েলটি বসানো হয়েছে তার নিজস্ব বাড়ির সীমানার মধ্যে, ফলে সাধারণ মানুষ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। টিউবওয়েলটি এখন তার পারিবারিক কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পানির কষ্ট সবার, কিন্তু সরকারি জিনিস এভাবে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা খুবই দুঃখজনক। মসজিদের নামে বরাদ্দ হলেও আমরা কেউ এখান থেকে পানি নিতে পারছি না।”

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জামাল মুন্সি দাবি করেন,আমি তো আমাদের চেয়ারম্যান কে ২৫০০০ টাকা দিছি সে কি ভাবে আনছে সেটা তো আমার জানার বিষয় না আমি আমার টিওবয়েল তো আমার সুবিধা মত বসাবো সেটাই তো বাস্তব। কিন্ত সিপিসি রিদোয়ান মেম্বার তো আমাকে বলে নায় যে এটা মসজিদের নামে পাশ হয়ে আসছে।

​কড়ইবারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন,সিপিসি তো আমাকে বললো না যে ব্যক্তিগত ভাবে বাড়ির ভিতরে বসাইছে “সরকারি কোনো প্রকল্পের এমন অপব্যবহার সহ্য করা হবে না। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে টিউবওয়েলটি অবিলম্বে সরিয়ে জনস্বার্থে উন্মুক্ত স্থানে স্থাপন করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনসেবার জন্য বরাদ্দকৃত একটি প্রকল্প কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।