তালতলীতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ এলাকাবাসীর

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছকিনা ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কহিনুর বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে তালতলী থানা পুলিশ। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের দাবি—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কহিনুর বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেদের বউদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে তিনি মাঝে মধ্যেই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যেতেন।
বুধবার তার মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কহিনুর বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার দাবি করা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, যে স্থানে বা যেভাবে মরদেহটি পাওয়া গেছে, সেখানে আত্মহত্যা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সাংবাদিক ও পুলিশ আসার পর ছেলের বউদের আচরণকে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রতিবেশীরা।

ঘটনার বিষয়ে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় মেম্বারের স্ত্রী। তিনি জানান, মৃত্যুর খবর শুনে তিনি যখন ওই বাড়িতে যান, তখন এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তার ভাষ্যমতে:
“আমি যখন বাড়িতে পৌঁছাই, তখন দেখি কহিনুর বেগমের মরদেহ একটি ‘খাড়ালের’ (মাচা বা তাক) সাথে ঠেস দিয়ে রাখা। কিন্তু সেখানে কোনো রশি বা ফাঁসের চিহ্ন ছিল না। তাকে হত্যা করে এভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে আমার বিশ্বাস।”

এলাকাবাসীর দাবি, ছেলের বউরাই মিলেমিশে এই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করা হয়নি, তবে তদন্ত চলছে।