তালতলীতে লাইসেন্সবিহীন সারের রমরমা ব্যবসা, বিপাকে কৃষক

বরগুনার তালতলী উপজেলায় লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে সারের ব্যবসা চলছে রমরমা। এতে করে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, অন্যদিকে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন নিম্নমানের সার কিনে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নীরব ভূমিকায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ কৃষকরা।

​উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় অনেক দোকানেই সারের স্তূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই সার বিক্রির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। এমনকি, কিছু কিছু ব্যবসায়ী ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। সারের মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেক সময় দেখা যায়, আসল সারের প্যাকেটে ভেজাল সার ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

৩ নং কড়ইবারিয়া ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়াডের পঃ ঝাড়াখালি ওয়াড ডিলার আবু সালেক থাকা সত্যে ও লাইসেন্স বিহিন ডিলার জাকির হাওলাদার দীর্ঘ দিন যাবত সার বিক্রি করে আসছে। হাতে নাতে একাদিক বার ধরা সত্যে ও তাকে কৃষি অফিসার ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। সে একাদিক বার সারের সাথে সাবু মিলিয়ে বিক্রয় করে জেল খেটেছেন তবুও দিব্যি তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

​ভুক্তভোগী এক কৃষক জানান, “আমরা জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় লাইসেন্সবিহীন দোকান থেকে সার কিনি। কিন্তু প্রায়ই দেখি সারের মান ভালো না। এতে ফলন ভালো হয় না। কিন্তু অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না।”

​এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে অবৈধ ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা অবিলম্বে লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রি বন্ধে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

​লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রির কারণে সরকার প্রতি বছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, কৃষকরা সঠিক মূল্যে মানসম্মত সার না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তালতলীর কৃষি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তারা এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।