বরগুনার তালতলীতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় একটি স’মিলকে এক লাখ টাকা জরিমানা, একটিখাদ্য প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা ও দুটি হোটেলকে সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার (৩ মে) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এ উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান ও বরগুনা সদরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়াত উল্লাহ।
অভিযানে কচুপাত্রা বাজার এলাকার হায়দার স’মিল-কে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ১৫ অনুযায়ী পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া তালতলী সদর রোডের ইসলামিয়া ফুড-এর মালিক হুমায়ুন কবির-এর বিরুদ্ধে স্যানিটারি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় দুটি হোটেল—মায়ের দোয়া হোটেল (মালিক: বাবুল হাওলাদার) ও আল্লাহর দান হোটেল (মালিক: শাহজাহান হাওলাদার)—কে খাদ্য ও পরিবেশগত অনিয়মের কারণে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিকে নির্ধারিত তারিখে কোর্টে হাজির হয়ে ত্রুটি সংশোধনের প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, কড়াইবাড়ি এলাকার ‘HBA ইটভাটা’ পরিদর্শনে গেলে সেখানে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় তালতলী থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল দল সহযোগিতা করে।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান বলেন,
“পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। স’মিল বা অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের এই অভিযান সচেতনতামূলক হলেও প্রয়োজনে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়াত উল্লাহ বলেন,
“খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কিছু হোটেল ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে ত্রুটি পাওয়া গেছে, যাদের সতর্ক করা হয়েছে। আইন মানতে সকলকে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য, তবে প্রয়োজনে কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হবে।”
