বরগুনার তালতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল খাঁনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (০১ মে) দুপুর ১২ টার দিকে তালতলী প্রেসক্লাব -এর হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. ইব্রাহিম খা এই অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খাঁন উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের মরানিদ্রা এলাকার তাহের খান এর ছেলে। আর অভিযুক্ত জামাল খাঁ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খাঁন বলেন, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মরানিদ্রা গ্রামের নয়া মিয়া হাওলাদারের ছেলে মোঃ দুলালের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২২ এপ্রিল স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল খাঁনের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা বসতবাড়ির জমির সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে এবং মাটি কেটে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করি। তবে মামলা করার পর থেকেই ইউপি সদস্য জামাল খাঁন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। মামলা না তুললে আমাদের স্বপরিবারে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছেন। আইনি লড়াইয়ে আমাদের দমাতে না পেরে ইউপি সদস্য জামাল খা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ছেলে গ্রাম পুলিশ আল-আমিন এর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অসামাজিক ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউপি সদস্য জামাল খাঁন আমার ছেলের গ্রাম পুলিশের চাকরি খেয়ে ফেলা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে। তাই সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমাদের এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানোর মতো অবস্থা হয়েছে। অতিদ্রুত এই ডিজিটাল সন্ত্রাস বন্ধ এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জামাল খাঁন বলেন,এগুলো সম্পুর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন,এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
