১৬ মার্চ রাতে উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তালতলী উপজেলার ০২ নং ছোটবগী ইউনিয়নের দক্ষিণ গেন্ডামারা গ্রামের নারী উদ্যোক্তা হাসি বেগমের পোল্ট্রি খামার। ঋণের বোঝা আর মৃত মুরগির স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে এখন দিশেহারা এই সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখা নারী।
গত ১৬ তারিখ দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঝড় শক্তির তীব্র বাতাসে হাসি বেগমের মালিকানাধীন ‘সাদিয়া ডেইরি ফার্ম’-এর টিনের চালা উড়ে যায় এবং পুরো অবকাঠামো ভেঙে পড়ে। খামারে থাকা প্রায় ২০০০হাজার মুরগির মধ্যে ঘর চাপা পড়ে ও ঠান্ডায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ মুরগি মারা গেছে। প্রতিটি মুরগির ওজন ছিল ১ থেকে ১.৫ কেজি। যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা।
হাসি বেগম একজন সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদে তিনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে এই খামারটি শুরু করেছিলেন। তার নেওয়া ঋণের তালিকায় রয়েছে: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক,ব্যুরো বাংলাদেশ,আশা (ASA),গ্রামীণ ব্যাংক
নিজের নাম হাসি হলেও, ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ তার মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। বিধ্বস্ত খামারের সামনে দাঁড়িয়ে বিলাপ করতে করতে হাসি বেগম বলেন, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম মুরগিগুলো বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করব। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি ঋণের টাকা কীভাবে দেব আর পরিবার নিয়েই বা কীভাবে বাঁচব?”
এ বিষয়ে হাসি বেগমের স্বামী নাসিরউদ্দিন খান বলেন হাসি বেগমের সপ্ন ছিল অনেক বড় সব নিবিয়ে দিল ঘূর্ণিঝড় শক্তি , তাই আমি বর্তমান সরকারের কাছে আকুল আবেদন করি যাহাতে নারী উদ্যোক্তার মনোবল ভাঙে না পরে
হাসি বেগমের হাসি যেন থেমে না যায়।
এলাকাবাসী জানান, হাসি বেগম অত্যন্ত পরিশ্রমী নারী ছিলেন। তার এই বিশাল ক্ষতিতে শুধু একটি খামারই নষ্ট হয়নি, বরং একজন সফল নারী উদ্যোক্তার পথচলা থমকে গেছে। তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে হাসি বেগমকে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
