ভেঙে পড়ল সোনার ব্রিজ, বিচ্ছিন্ন ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ


তালতলী উপজেলার ৩ নং কড়ইবাড়িয়া ও ২ নং ছোটবগী ইউনিয়নের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহ্যবাহী ‘সোনার ব্রিজ’টি আজ সকাল ১০টায় ভেঙে পড়েছে। এতে করে দুই ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

​২০০৭/০৮ অর্থ বছরে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্রিজটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই স্থানীয়রা এটি ব্যবহার করে আসছিলেন। আজ সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ব্রিজটির মাঝখানের অংশ ভেঙে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

​ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ঐ এলাকার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্র-ছাত্রী। প্রতিদিন স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য এই ব্রিজটিই ছিল তাদের একমাত্র মাধ্যম। এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে বা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে তাদের।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কড়ইবাড়িয়া ও ছোটবগী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা ছিল এই সোনার ব্রিজ। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং কৃষি পণ্য বাজারে নেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংস্কার বা নতুন ব্রিজের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে একটি টেকসই নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখা হচ্ছে এবং চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ।